
সংবাদ আবির্ভাব : আসলে অবশেষে “গোদি মিডিয়া”-র খেলা শেষ হতে বসেছে।
এই গোদি মিডিয়া চ্যানেল গুলি কিভাবে তৈরি হয়েছিল ?
উঃ PMO থেকে এদের funding -এর ব্যবস্থা করে দিতেন PMO -র অফিসার হীরেন যোশী ! গুজরাতি।
গোদি মিডিয়ার চ্যানেল গুলির কাজ কি ছিল ?
উঃ নরেন্দ্র মোদীর “larger than life” image তৈরি করা।
“পাকিস্তান নরেন্দ্র মোদী থাকলে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না”
“নরেন্দ্র মোদীকে সবাই বিশ্বগুরু মানছে”
“বালোচিস্তানকে আলাদা বানাবেন মোদী”
“বিশ্বকাপ জেতাবেন মোদী”
PMO -র মাধ্যমে ব্যবসায়িক funding পেয়ে গোদি চ্যানেল গুলি এগুলি করে যাচ্ছিলো। যার অনেকগুলো আম্বানির বা আদানির কেনা। India TV , India Today , ABP , Republic TV , Zee এগুলো নিজস্ব।
যে গোদি মিডিয়ার ব্যবসাই মোদীকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফুলিয়ে , তাদের credibility নষ্ট হয়ে গেলো কি করে ? বা তারা মোদী বিরোধী হয়ে উঠলো কি করে ?
উঃ “Operation Sindoor”-এর পরে পুরো মোদী নির্ভর narrative শুয়ে গেছে। ওই যে মোদী ২ দিনের মধ্যে আমেরিকার ধমক খেয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে দিলেন, আরো ২ দিন পাকিস্তানকে বোমা মেরে গেলে চ্যানেল গুলোর TRP এতটা পড়ে যেত না।
PMO থেকে চ্যানেল গুলোর কাছে খবর পাঠাতেন হীরেন জোশী !
তার ফলেই সুমন দে -র মতো সাংবাদিক আজেবাজে খবর ছড়াচ্ছিলেন , “এইমাত্র খবর পাওয়া গেলো, করাচী ভারতীয় নৌ সেনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। পেশওয়ার উড়িয়ে দিচ্ছে ভারতীয় বায়ু সেনা। বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিলো। রাওয়ালপিন্ডি , শিয়ালকোটে আর্মি base -এ বিরাট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। “
পরে দেখা গেলো, সবই ভুয়ো খবর !
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সত্যি খবর গুলো দিচ্ছিলেন। যেখানে বোঝাই যাচ্ছিলো, অমন কিছুই হয় নি।
তারপরে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের হাবিজাবি সাক্ষাৎকার। একটি দেশের সমর্থনও জোগাড় করতে না পারা।
কোনো খবরই হীরেন জোশী আটকে রাখতে পারেন নি।
ফলে “Operation Sindoor”-এর বাজে press -এর কারণে হীরেন যোশীকে সরতে হয়।
ব্যাস, PMO -র সঙ্গে যে সম্পর্ক “গোদি মিডিয়া”-র ১০ বছর ধরে তৈরি হয়েছিল, বা তারও আগে গুজরাত CMO থেকে যেভাবে Corporate মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পুরোটা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
PMO -র তরফে নতুন মিডিয়া ম্যানেজার হয়ে আসেন প্রতীক দোশী, আরেক গুজরাতি । এবং সম্পর্কে নির্মলা সীতারামনের জামাই।
কিন্তু তাঁর গোদি মিডিয়ার উপরে সেই জোর আর থাকে না।
(১) Operation Sindoor আর তারপরে Tariff War -এ মার খাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদীর image ধূলিসাৎ
(২) গোদি মিডিয়ার TRP হু – হু করে পড়ে যাওয়া
শুধু Republic -এর রাজস্ব গত এক বছরে ৫৫% হ্রাস হয়েছে।
অর্ণব গোস্বামীর চ্যানেলের সাংবাদিকরা মাইনে পাচ্ছেন না।
উল্টোদিকে মানুষ TV ছেড়ে YouTube , Instagram, Facebook -এর দিকে ঝুঁকছেন। ধ্রুব রাঠী, অজিত আনজুম, রাবিশ কুমার, আকাশ ব্যানার্জী, news laundry -র জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
অবস্থা এমন যে অর্ণব গোস্বামীর দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। বিজেপির কাছে অর্ণব গোস্বামীর দাবি ছিল, সব ভাষার regional news channel খোলা। বাংলায় যেটা করে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ বা স্বর্ণালীরা খানিকটা হলেও সফল। regional content ভালো। কোনো কোনো সময় তৃণমূল বিরোধিতা করেও TRP রাখছে। কিন্তু বাকি ভাষার চ্যানেল গুলোর জন্যে আর PMO funding পাওয়া যাচ্ছে না।
কিন্তু “গোদি মিডিয়া”-র বর্তমান সমস্যা হচ্ছে, “নরেন্দ্র মোদীকে আর গেলানো যাচ্ছে না দর্শকদের”
বাংলাদেশে এতো কিছু ঘটছে। নরেন্দ্র মোদী চুপ।
চীন যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী চুপ।
নেপালে সরকার পরিবর্তন হয়ে গেলো। নরেন্দ্র মোদী চুপ।
তার উপরে ট্রাম্প সরকার প্রতিদিনই নরেন্দ্র মোদীর বেইজ্জতি করে চলে যাচ্ছে।
গোদি মিডিয়া কি গেলাবে ? ৫৬ ইঞ্চি ছাতি বললেই মানুষ চ্যানেল ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।
এবারে PMO -র দেওয়া ফান্ড নিয়ে লেগে গেছে anchor -দের মধ্যে ঝামেলা।
অর্ণব গোস্বামী চেঁচাচ্ছেন, “সুধীর চৌধরী কেন ১৫ কোটি টাকা পাবেন প্রসার ভারতীর ?”
কেউ কেউ চেঁচাচ্ছেন, “নেটপ্রভাবী কামিয়া জানি কোন যোগ্যতায় ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও বানিয়ে ৬.০৯ কোটি টাকা পাবেন প্রসার ভারতীর থেকে ?”
মানে “গোদি মিডিয়া”-তে পুরো নরক গুলজার !
এই “গোদি মিডিয়া” , এমনকি তাঁদের আইকন নরেন্দ্র মোদী ২০২৭ অব্দি টিঁকবে কিনা তাই নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে।
বিহার নির্বাচন হারলেই নরেন্দ্র মোদীর বিদায় নিশ্চিত ছিল।
নীতিশ কুমার আর সব নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করে মহিলাদের account -এ ১০,০০০ টাকা দিয়ে বেঁচে গেছেন।
কিন্তু এবার থেকে এক একটি নির্বাচনের ফলাফল নরেন্দ্র মোদীর জন্যে বিপদঘন্টি হিসাবে চিহ্নিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর উপরে ভরসা না রেখে দিলীপকে ফেরাতে হচ্ছে কারণ পশ্চিমবঙ্গে ৫০ টি আসন জেতার অবস্থাও বিজেপির নেই।
অসমেও প্রতিদিনই বিজেপির জন্যে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।
এখন বিজেপির আর “নরেন্দ্র মোদীর ইমেজ” কাজ করছে না।
কোনো কোনো সময়ে নির্বাচন manipulation , কোনো কোনো সময় regional factors -এর উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিজেপির যেমন এখন “বাংলাদেশ” ছাড়া বলার কিছুই নেই।
“তৃণমূলের চুরি” ?
পাল্টা অভিযোগ বিজেপির দিকেই ধেয়ে আসছে, “তাহলে ভাইপোকে ছাড়লে কেন ?”
বিজেপির ভরসা এখন কংগ্রেসের মধ্যে থাকা “Sleeper Cell”।
এঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে আসল প্রশ্নগুলি না তুলে হিন্দু – মুসলিম narrative -এই খেলে চলেছেন।
“হুমায়ুন বাবরি মসজিদ বানাতে শুরু করছে না কেন ?”
কংগ্রেসের তো এই প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। বরং বিজেপি আর তৃণমূল সরকারের প্রকল্পের ব্যর্থতা গুলি point out করা উচিত।
“তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্য সাথী এবং কন্যাশ্রী কেন ব্যর্থ” ???
অথবা “নরেন্দ্র মোদী সরকার কেন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যকে বেসরকারি করণ করে প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের জীবন অন্ধকার করে দিচ্ছেন ?”
অনেক বিরোধী নেতা narrative -ই তৈরি করতে পারেন না। শুধু media interaction করেন।
এঁরাই বিজেপির টিঁকে থাকার শেষ খড়কুটো !