
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
বুধবার স্থায়ী প্রধান বিচারপতি পেল কলকাতা হাইকোর্ট । এদিন সকালে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র ভিঠালরাও ঘুগে ।অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি।শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার এবং রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক। কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান ও প্রাক্তন বিচারপতিদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য হাইকোর্টের বিচারপতিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বিচারপতি ঘুগের নিয়োগের আগে বেশ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বেই চলছিল কলকাতা হাইকোর্ট । স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইনজীবীমহলেও আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে ৯ ও ৩১ আগস্ট নিয়োগ সংক্রান্ত সুপারিশ করে। এরপর কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বুধবার শপথ নিলেন বিচারপতি ঘুগে।এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার, বিধায়কমণ্ডলী এবং দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের প্রাক্তন ও বর্তমান বিশিষ্ট বিচারপতি ও প্রবীণ আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগে পর্যন্ত এতদিন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন সিনিয়র বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।শপথগ্রহণের পর আবেগঘন বক্তব্যে নতুন প্রধান বিচারপতি বলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট দেশের সবচেয়ে প্রাচীন আদালত, যেখানে আমার পূর্বে বহু স্বনামধন্য ও প্রতিভাধর ব্যক্তি পা রেখেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বীরভূমি এই বাংলা, যা ভারতের স্বাধীনতার জন্ম দিয়েছে।”নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সাইকেল চালানো থেকে আজ এই উচ্চাসনে বসা সহজ ছিল না। আমাকে ৪ মাইল হেঁটে ল কলেজে যেতে হত। পুরো পথচলায় আমার স্ত্রী এবং পরিবারের নিঃশব্দ আত্মত্যাগ রয়েছে। আজ মাকে ভীষণভাবে মনে পড়ছে।” নবীন প্রজন্মের প্রতি তিনি জানিয়েছেন , “আইনজীবীদের বলব, কঠিন পথ পেরিয়েই সাফল্য মেলে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কাজের পরিধি আরও মসৃণ করতে হবে।”