ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিস খালি করার দমকলের নোটিশ বাতিল করলো হাইকোর্ট

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করা নিয়ে দমকলের নোটিস খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। গত ৪ সেপ্টেম্বর দমকল যে নোটিস দিয়েছিল, বুধবার তা খারিজ করল হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঞ্চল বেঞ্চ। বিচারপতি নির্দেশ দিলেন, কালীঘাট তৃণমূলকে নতুন করে নোটিস দিয়ে পরিদর্শন করবে দমকল।।আদালতের নির্দেশ, নতুন নোটিস দেওয়ার পর দমকল আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিস ফের পরিদর্শন করবেন। অগ্নিসুরক্ষা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানাতে হবে। সেই নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে অফিস কর্তৃপক্ষকে। নির্দেশ না মানা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে দমকল বিভাগ।ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস। ওই ভবন থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদের বচসার অভিযোগ ওঠার পর দমকল সেখানে পরিদর্শনে যায়। ভবনের বিভিন্ন তলা ঘুরে দেখার পর মালিকপক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়। দমকলের অভিযোগ ছিল, সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সেই কারণেই ওই অংশ খালি করার কথা বলা হয়েছিল। পরে ভবনের মালিকপক্ষও সংশ্লিষ্ট অফিস খালি করার নির্দেশ দেয়। দমকলের সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাটের তৃণমূল শিবির।আগের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, ওই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা লিজে নেওয়া হয়েছিল এবং ২৬ অগস্ট সেই লিজ বাতিলের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, দমকল গোটা ভবনে একাধিক ত্রুটির কথা বললেও শুধুমাত্র সপ্তম ও অষ্টম তলাকেই অনিরাপদ বলে চিহ্নিত করেছে। সপ্তম তলায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। তাঁর দাবি, ভবনের অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত পরিকাঠামোগত ত্রুটি সংশোধনের দায়িত্ব মূলত মালিকপক্ষের।অন্যদিকে, রাজ্যের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র আদালতে জানান, সপ্তম তলায় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছিল। পাশাপাশি ওই দুই তলার ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছিল না বলেও দাবি করা হয়। সেখানে ৪৫টি ফায়ার স্প্রিংকলার থাকলেও অন্যান্য তলার তুলনায় সংখ্যাটি কম এবং অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থায় আরও কিছু ত্রুটি ছিল বলে আদালতে জানায় রাজ্য। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আগের শুনানিতে দমকলের নোটিসে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এবার বুধবার সেই নোটিসই খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ। তবে অগ্নিসুরক্ষার বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। নতুন নোটিস দিয়ে ফের পরিদর্শন করতে হবে দমকলকে এবং তার ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *