
সৌরভ দত্ত, সংবাদ আবির্ভাব,কলকাতা:১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো আন্দোলনকারীদের সম্মান জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন সরকারের ৯০ দিন পূর্তি উপলক্ষে নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লোকতন্ত্র সেনানীদের সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেনানীদের উপর পুষ্পবৃষ্টিও করা হয়। পাশাপাশি বৈদিক মন্ত্র পাঠ করা হয়। এদিন ৩০০ জনকে সম্মানিত করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যেতে পারে। তাঁর দাবি, সেই সময় সারা দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছিল এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মিসার কারণে জেলে গিয়েছিলেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-সহ বহু গণতন্ত্রপ্রিয় সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার সময় তাঁরা চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়েছিলেন। ইমার্জেন্সি উঠে যাওয়ার পরেও বেশ কয়েকজন জেলে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। গণতন্ত্রের পক্ষে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সবাইকে সম্মান জানানো হবে বলেও জানান শুভেন্দু।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “হৃদয় থেকে দণ্ডবৎ প্রণাম নিবেদন দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের যারা সেনানী, তাঁদের প্রত্যেককে।” তিনি আরও বলেন, লোকতন্ত্র সেনানী সংঘের সাহায্য ছাড়া এই কাজ সম্ভব হত না। তাঁদের তথ্য প্রদানও অত্যন্ত উপযোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন সরকারের কাছে এই ভাবনা আসার কারণ ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু বলেন, তাঁর এবং মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের মনে হয়েছে, লোকতন্ত্র সেনানীরা যে আদর্শ তৈরি করেছিলেন, তার কারণেই তিনি আজ এই বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের তৈরি করা সোপানের উপরই এই সরকার গঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, লোকতন্ত্র সেনানীদের যোগ্য সম্মান দেওয়া সরকারের কর্তব্য। নতুন প্রজন্মের জানা উচিত জরুরি অবস্থার ইতিহাস। তাঁদের ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং কারাবরণের ফলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা এবং তাঁর জন্মশতবর্ষ পালনের জন্য কমিটি গঠনের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ওই কমিটির প্রথম বৈঠক আগামী ১৩ আগস্ট নবান্নে হবে। সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে অতীতকে নিয়ে চলাই তাঁদের ভাবনা। লোকতন্ত্র সেনানীদের আর্থিক সাহায্য নয়, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মান জানানোই মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে লোকতন্ত্র সেনানী সংস্থার পরামর্শ নিয়মের মধ্যে থেকে পালন করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।