আইন মেনে কি সব জায়গায় SIR হচ্ছে??

Spread the love

মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেপ্তার,দোষী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক, বিচারের প্রমাণিত হলে উপযুক্ত সাজাও হোক—এটাই গণতন্ত্রের মূল নীতি, কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে, আইন কি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং স্বচ্ছভাবে প্রয়োগ হচ্ছে..?

আইন অনুযায়ী SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া চলছে—দেশের স্বার্থে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা অবশ্যই জরুরি, নির্বাচন কমিশনও স্পষ্ট করে বলেছিল, 2002 সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কোনো সমস্যা হবে না, আবার এটাও বলা হয়েছিল, 2002 সালের পিতা বা মাতার সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারলেই ভোটাধিকার নিশ্চিত থাকবে, কথাগুলো শুনতে যেমন যুক্তিসঙ্গত, বাস্তবে তার প্রয়োগে ততটাই প্রশ্ন উঠছে..!”

কারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে—এই শর্ত পূরণ করার পরেও বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, হাজার হাজার মানুষ, যারা নিয়ম মেনেই নিজেদের তথ্য প্রমাণ করেছেন, তারাও ডিলিট হয়েছেন, তখন প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক, কোন আইনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল..? যদি আইন মেনে সব কিছু হয়, তাহলে এই বৈপরীত্য কেন..?
সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো ভোটারের নাম বাদ দিলে তার উপযুক্ত কারণ জানানো বাধ্যতামূলক..!”

কিন্তু under adjudication-এর ক্ষেত্রে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে—রায় দেওয়া হয়েছে, ভোট কেটে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার কোনো লিখিত বা স্পষ্ট কারণ দেওয়া হয়নি, এটি শুধু প্রশাসনিক ঘাটতি নয়, বরং আইনের মৌলিক নীতির বিরোধিতা,আরও বড়ো অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে একই পরিবারের মধ্যে, এক ব্যক্তি, একই সূত্র—কিন্তু ফলাফল ভিন্ন, কেউ বৈধ ভোটার হিসেবে থেকে গেছেন, আবার কেউ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন..!”

বিবাহ বা ঠিকানার পরিবর্তনের কারণে একই পরিবারের সদস্যরা আলাদা ব্লকে থাকলেও, তাদের পরিচয়ের ভিত্তি তো একই, তাহলে একজন থাকবেন আর আরেকজন বাদ পড়বেন—এই দ্বিচারিতা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়. ?
আমার নিজের পরিবারের উদাহরণ এই সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেই বলছি, অনেকেই 2002 সালে সাবালক ছিলেন বলে তালিকায় নাম আছে, আবার অনেকেরেই ভাইবোনেরা তখন নাবালক হওয়ায় পিতার সঙ্গে লিঙ্ক দেখিয়েছেন, কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে—একজন বোন বৈধ ভোটার, অথচ ভাই এবং আরেক বোন বাদ পড়েছে, এটি শুধু একটি ভুল নয়, এটি একটি গভীর অসঙ্গতি, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসছে..!”

মালদা জেলার মতো জায়গায় এই সমস্যা আরও প্রকট, দূর থেকে দেখলে হয়তো বিষয়টি ছোটো মনে হতে পারে, কিন্তু যারা সরাসরি ভুক্তভোগী, তাদের কাছে এটি অধিকার হারানোর ভয় এবং অপমানের সমান, এই পরিস্থিতিতে মানুষের রাস্তায় নামা কোনো বিশৃঙ্খলা নয়—এটি তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই, গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়, বরং দায়িত্ব, যখন প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজে অসংগতি দেখা যায়, তখন সেই প্রশ্ন তোলাই রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয়..!”

সবশেষে বলা যায়, আইন শুধু প্রণয়ন করলেই যথেষ্ট নয়—তার সঠিক, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ প্রয়োগই আসল বিষয়, যদি সেই প্রয়োগে ত্রুটি থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদই সেই ত্রুটি সংশোধনের প্রথম ধাপ, আর সেই প্রতিবাদই প্রমাণ করে—মানুষ এখন আর নীরব নয়, তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ..!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *