
আনন্দবাজারে প্রকাশিত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর উত্তর-সম্পাদকীয় প্রবন্ধ ‘সংকটের ঘূর্ণিপাকে’ সত্যনিষ্ঠ ও যথাযথ, তবে অতিরিক্ত সাবধানী লেখা। সমস্যাটা বাংলাদেশ নিয়ে নয়, সমস্যাটা ইসলাম নিয়ে । পৃথিবীর সব ধর্মেই কিছু না কিছু দুরাচার ছিল । আমাদের হিন্দুধর্ম এই বাবদে সবচেয়ে উদার হলেও এতে অতীতে সতীদাহ, নরবলি, কৌলীন্যপ্রথা ইত্যাদি কুপ্রথা ছিল। খ্রিষ্টানরা জোয়ান অফ আর্ক-কে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল, তাদের পোপ একদা টাকা নিয়ে পাপকাজ করার স্বাধীনতা দিত । কালের গতিতে সেসব এখন অস্তমিত, সেসবকে ঘৃণা করতে আজ কোনো হিন্দু বা খ্রিষ্টানের বাধে না । ব্যতিক্রম ইসলাম। আজকেও কট্টর ইসলামীরা মনে করে, তাদের হজরত মহম্মদ ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে যা যা বলে গিয়েছিল, যা যা করত, সেসব অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে, যে রকমভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ঘৃণা ও হত্যা করতে শিখিয়েছিল সেটাও অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মাচরণ করার কোন স্বাধীনতাই নেই, সংসারে নারীদের একমাত্র কাজ হচ্ছে সন্তানধারণ ও পুরুষকে সুখ দেওয়া। মুশকিল হচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে কোটি কোটি মানুষ আছেন যারা এই সব কথার কোন তাৎপর্য বা অর্থ আজকের যুগে আছে বলে মানেন না, যাঁরা মনে করেন সব ধর্মাবলম্বীদের নিজের ধর্ম শান্তিতে মেনে চলার অধিকার আছে, নারীরা পুরুষের সমানই মানুষ, কিন্তু সেকথা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পান বা অন্য কোন কারণে বলেন না, সাফাই দেন – তসলিমা নাসরিন সদৃশ হাতে গোনা অসমসাহসী ছাড়া।
তাহলে আমরা, হিন্দু বা খ্রিষ্টানরা কি করব ? পড়ে মার খাব ? দীপু দাসের মত জ্যান্ত আগুনে দগ্ধ হব ? পূর্ববাংলার এক কোটির উপর হিন্দুর মত নিজেদের চৌদ্দপুরুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে পথের ভিখারি হব ? না কি মোহনদাস গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বামপন্থীদের থেকে আরম্ভ করে মমতা ব্যানার্জির মত ভুজুং-ভাজুং দিয়ে সত্যটা আড়াল করার চেষ্টা করব ? কোনটাই নয় । আমরা আমাদের মত বেঁচে থাকব, আমাদের ধর্মাচরণ করব। মুসলমানেরা তাদের মত তাদের ধর্মাচরণ করুক — ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ গোছের ভণ্ডামির কোন দরকার নেই । কিন্তু যদি কেউ আমাদের ধর্মাচরণ করায় বাধা দিতে যায় তাহলে তাদের প্রেম বা অহিংসা বিতরণ করব না । তারা মুসলমান হোক বা মোহনদাস-জওহরলাল-বামপন্থীদের মত দু’নম্বর হিন্দু হোক, এমন শিক্ষা দেব যে তারা তাদের চৌদ্দপুরুষ মনে রেখে দেবে ।
আত্মসম্মান নিয়ে হিন্দু হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য এইটাই নিদান ।