
ডাঃ মৈনাক নাথ, সংবাদ আবির্ভাব, কলকাতা : তাহলে আপনিও এলেন অগ্নিমিত্রা দেবী, ঠিক যেমন তিনিও এসেছিলেন আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে! লিখলেন ডাঃ মৈনাক নাথ।
আপনিও একটু ধমকালেন, ক্যামেরার সামনে। বললেন চোখ পাকিয়ে যে এসব আর চলবে না নতুন সরকারে ।
বিশ্বাস করুন আমরা ডাক্তাররা নার্সরা দিনের পর দিন ওই নোংরা জল , থুতু, কফ মল মূত্রের মধ্যে কাজ করি ২৪ ঘণ্টা। আধ ঘন্টায় যা আপনি স হ্য করতে পারেন নি তাই আমরা মানিয়ে নিচ্ছি বছরের পর বছর। খাবার জল নেই, মাটিতে রুগি, পা রাখার জায়গা নেই, ফ্যান নেই, পর্যাপ্ত বেড নেই , মানুষের সিভিক সেন্স নেই- নেই-আর নেই।
আর কি আছে?
একশো রুগীর জন্য দুটো নার্স আর একটা গ্রুপ ডি কর্মী আছে,
ছাদ ভর্তি ঝুল আছে,
মেঝে ভর্তি ধুলো আছে,
কুকুর আছে , বিড়াল আছে,
যখন তখন পেশেন্ট পার্টির ঝামেলা আছে, গালাগালি আছে!
তবু ভরসা আছে আপনার ওপরে!
ডাক্তার নার্সদের একটা বড় অংশ দুহাত তুলে আপনাদের ভোট দিয়েছে শুধু এই অবস্থার বদল হবে বলে।
আপনি আসুন হাসপাতালে, আরও আসুন তবে ডাক্তার নার্সদের সহজ টার্গেট সাজিয়ে মানুষের চোখে ভিলেন করবেন না প্লিস । বরং সমস্যার গভীরে ঢুকে সমাজ কে এক উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উপহার দিন।
আরও নিয়োগ করুন – শুধু ডাক্তার বা নার্স নয় – গ্রুপ ডি , সুইপার ক্লিনার ফার্মাসিস্ট টেকনিসিয়ান গার্ড ইত্যাদি
আরও জোগান দিন – পর্যাপ্ত স্টেচার , ট্রলি ওষুধ অপারেশনের সামগ্রী
মানুষ কে শৃঙ্খলিত করুন। পানের পিক, থুতু, যত্র তত্র পেছাপ পায়খানা করে , চিপসের প্যাকেট কলার খোসা ফেলা মানুষ গুলোকে শাস্তি দিন।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির দিকে নজর রাখুন । ভীষণ খারাপ মানের স্যালাইন ওষুধ সুতো বিটাদিন গ্লাভস থেকে রোগীদের জীবন নিয়ে খেলা হয়। তা ঠিক রাখুন।
ডাক্তার নার্সদের ভাংচুর / অশান্তির দুশ্চিন্তা থেকে দূর করুন! মানুষ অমর নয়। কিন্তু অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর পরে যে অশান্তি রোজকার ঘটনা তা এড়াতে গ্রামাঞ্চলের হাসপাতাল থেকে রেফার হয় নিজেদের জীবন/ সম্মান বাঁচাতে। এ না ঠেকালে রেফার রোগ কোনদিন আটকাতে পারবেন না। মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের সুস্থ উপায় দিন!
বড় বড় বিল্ডিং নয়, বরং তাতে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। স্বাস্থ্যের বিকেন্দ্রীকরণ করুন। সবকিছুর জাঁয় যেন কলকাতায় ছুটতে না হয়!
সাধারণ মানুষের মনে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে যে অবিশ্বাস / সংশয় তৈরি হয়েছে তা দূর করতে ব্যবস্থা নিন।
সর্বোপরি আপনারা এগিয়ে এসে সরকারি হাসপাতালে নিজেদের চিকিৎসা করান, তাতে হাসপাতাল গুলোর প্রকৃত সমস্যা বুঝবেন আর উন্নত করতে পারবেন।
শুধু একদিন সপারিষদ এসে মিডিয়ার সামনে কোনও এক বেচারা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার , নার্সিং সুপার কে চোখ পাকলে কমেন্টে হয়তো কিছু হাত তালি পাবেন , কিন্তু আসল সমস্যার সমাধান হবে না অগ্নিমিত্রা দেবী!
বড় আশা আপনাদের কাছে। একটু দেখবেন প্লিজ!