
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এক দুর্নীতি মামলায় প্রশাসনের আধিকারিকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়।বাংলা আবাস যোজনার টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ। এদিন রাজ্যের রিপোর্ট দেখে ক্ষুব্ধ হন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসককে ব্যাক্তিগত হাজিরার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি আবাস যোজনার অর্থ পুনরুদ্ধারেরও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত।দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বাংলা আবাস যোজনার পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে? তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছিল। দীর্ঘদিন মামলা বিচারাধীন থাকার পর চলতি বছরে ফের কলকাতা হাইকোর্ট বর্তমান অবস্থান জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিডিওর কাছে রিপোর্ট তলব করে। ওই নির্দেশে এও উল্লেখ করা হয়েছিল যে অর্থ পুনরুদ্ধারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানাতে হবে।এদিন এই মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্যের আইনজীবী একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্ট দেখে বিস্মিত হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের পক্ষ থেকে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়, তা আদালত পর্যবেক্ষণ করে দেখে যে রিপোর্টটি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের! অর্থাৎ আদালতের নির্দেশের পূর্বের রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।এতেই ক্ষুব্ধ হিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নির্দেশ দেন, – ‘আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানাতে হবে কেন পুরনো রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হল? একইসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, ওই দিন কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হতে হবে জেলাশাসককে।’ এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।