গুসকরায় ‘আমরা যাত্রা ভালোবাসি’-র বার্ষিক অনুষ্ঠান ঘিরে সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, সম্মানিত কৃতী ও শিল্পীরা

Spread the love

রাহুল রায়,গুসকরা : যাত্রাশিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং স্থানীয় প্রতিভাকে মঞ্চ দেওয়ার লক্ষ্যে গুসকরায় অনুষ্ঠিত হলো ‘আমরা যাত্রা ভালোবাসি’ সংস্থার তৃতীয় বর্ষের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গুসকরা স্কুল মোড়ের সুকান্ত সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি সম্মাননা প্রদান ও যাত্রাপালা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মঙ্গলকোটের ভূমিপুত্র ও বিশিষ্ট সমাজসেবী ননীচূড়া ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন গুসকরার সমাজসেবী চন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, সমাজসেবীকা দেবযানী গড়াই সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংস্থার সভাপতি মৃন্ময় চক্রবর্তী জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই শিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অপেশাদার শিল্পীদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এবছর সংস্থার বার্ষিক অনুষ্ঠান তৃতীয় বছরে পা দিল।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘নারীশক্তি সম্মাননা’। সম্মানিত করা হয় কয়েকজন অপেশাদার যাত্রাশিল্পীকেও। পাশাপাশি পড়াশোনায় কৃতিত্ব অর্জনকারী পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। অনুষ্ঠানে গুসকরার তনুশ্রী চ্যাটার্জির সাফল্যও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি দিদি No. 1-এর জ্যাকপট উইনার, সুখী গৃহকোণ সেরার সেরা গিন্নি, বিন্দাস বৌদিমণি এবং মিসেস পূর্ব ভারত-এর 2nd Runner Up-এর সম্মান অর্জন করেছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের মোট ১৩টি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তনুশ্রী। তাঁর এই সাফল্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের নজর কাড়ে।
অনুষ্ঠানের পর সুকান্ত সংঘ প্রাঙ্গণে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘সংসার চিতায় জ্বলছে সীতা’। সংস্থার সভাপতি মৃন্ময় চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য শিল্পীদের অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনা দর্শকদের মন জয় করে। যাত্রার সংলাপ, অভিনয় ও পরিবেশনার টানে প্রাঙ্গণে জমে ওঠে দর্শকদের ভিড়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিমাদ্রী চক্রবর্তী। সমাজসেবী ননীচূড়া ঘোষ ‘আমরা যাত্রা ভালোবাসি’ সংস্থার এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সদস্য ও শিল্পীদের শুভেচ্ছা জানান। যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একইভাবে সংস্থার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন সমাজসেবী চন্দ্রনাথ ব্যানার্জী-সহ উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন শুধু শিল্পীদের উৎসাহিত করেনি, পাশাপাশি এলাকার সাংস্কৃতিক পরিবেশকেও সমৃদ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে সুকান্ত সংঘ প্রাঙ্গণে ‘আমরা যাত্রা ভালোবাসি’-র বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *