‘মিলন কে উপনির্বাচনে লড়তে দিন’ আজ ফের শুনানি হাইকোর্টে

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন,সংবাদ আবির্ভাব : নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। শুধুই ১৯ বছরের পুরনো খুনের মামলা নয়, অস্ত্র আইনেও গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীকে।উপনির্বাচনের আগেই পুরনো মামলায় গ্রেফতার হন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর জামিনের আবেদনের মামলায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান ”মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন।” তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, ”আমি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি। তিনি নির্বাচনে অংশ নিন। বাকিটা মামলার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে।” শুক্রবার বিকেল ৪টেয় হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।জামিন চেয়ে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মিলন। তাঁর আইনজীবীরা বিচারপতি ঘোষের এজলাসে তাঁদের মক্কেলের জামিনের আবেদন করতে চান বলে জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মিলন উপনির্বাচনের প্রার্থী। জামিনের আবেদনের শুনানি করতে সময় লাগবে। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিক। এই মামলার দ্রুত শুনানি করা হোক। আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর জামিনের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার জানান, আসন্ন উপনির্বাচনে মিলনকে লড়াই করতে দেওয়া হোক। তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দেবেন।গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন পর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয় বলে পুলিশ সূত্রের খবর। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ’ করতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।শুনানি চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য। বিচারপতি ভট্টাচার্য রাজ্যের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, ‘২০২১ সালে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্তকারী আধিকারিকেরা কী করছিলেন?’ জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, আগের সরকার এই মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস প্রার্থী চারটি মামলায় জামিনের আবেদন করেছেন। রাজ্যের উচিত বাকি ছ’টি মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ না করা। আদালতের সামনে এমন কোনও নথি নেই যা প্রমাণ করে যে, কংগ্রেস প্রার্থীর ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ কার্যকর ছিল।হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলনকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে কাঁথি আদালতও তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠায়। খেজুরি থানায় দায়ের হওয়ার মামলায় বুধবার আবার মিলনকে কাঁথি আদালতে হাজির করানো হয়।আজ ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *