লোকভবনের ৬টি প্রবেশদ্বারের নামকরণ, জায়গা পেলেন রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমচন্দ্র

Spread the love

সৌরভ দত্ত, কলকাতা
ইংরেজ আমলে দিক নির্ণয় করে নাম রাখা হয়েছিল গেটগুলির। এর কোনওটি দিয়ে নিজের ভবনে প্রবেশ করতেন লাটসাহেব। কোনও গেট দিয়ে বের হতেন তাঁর পরিবার। স্বাধীনতার পরও রাজভবনের গেটের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের আমলে রাজভবনের নাম পরিবর্তন করে লোকভবন করা হয়েছিল। এ বার রাজ্যপাল আর এন রবির উদ্যোগে ৬টি গেটের নতুন নামকরণ করা হল। বাংলার সাহিত্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সমাজ সংস্কারক এবং আদিবাসী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট মনীষী ও ব্যক্তিত্বদের স্মরণে এই উদ্যোগ নিয়েছেন রাজ‌্যপাল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণে লোকভবনের একটি গেটের নাম ‘কবিগুরু দ্বার’। নিজস্ব ছবি।
সূত্রের খবর, রাজভবনের দক্ষিণ দিকের যে গেটটি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপালের যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট, সেটি এতদিন পরিচিত ছিল ‘সাউথ গেট’ বলে। এবার তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঋষি বঙ্কিম দ্বার’। ওই গেট থেকে ভবনের ভিতরের গেট পর্যন্ত রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে ‘কর্তব্য পথ’। উত্তর দিকের প্রধান প্রবেশপথ, যা সাধারণ মানুষ-সহ বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেটি পরিচিত ছিল নর্থ গেট নামেই। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণে সেই গেটের নাম এবার থেকে ‘কবিগুরু দ্বার’। এ ছাড়াও আরও চারটি গেট রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে। সেই প্রবেশদ্বারগুলিরও নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এজি বেঙ্গল ও কলকাতা হাই কোর্টের দিকের যে গেটটি মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডক্টর বিধানচন্দ্র রায় রোড’। উত্তর-পশ্চিম দিকের গেটের নাম ‘ক্ষুদিরাম বোস দ্বার’। পূর্ব দিকের প্রবেশপথের নতুন নাম ‘সিধো-কানহো দ্বার’। আর উত্তর-পূর্ব দিকের গেটটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজা রামমোহন রায় দ্বার’।
নতুন নামকরণের মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ৬ জন মনীষীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সাহিত্য থেকে সমাজ সংস্কার, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে আদিবাসী বিদ্রোহের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের স্মারক হয়ে থাকবে লোকভবনের এই প্রবেশপথগুলি। প্রত্যেকটি গেটের নামের আগে খোদাই করা হয়েছে অশোক স্তম্ভও। ফলে নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রবেশপথগুলির চেহারাতেও যুক্ত হয়েছে নতুন পরিচিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *