
সৌরভ দত্ত, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ঘোষণা করা হয়, কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি এলাকার সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে ‘ইসকন’ -এর হাতে। তারপরই প্রশ্ন ওঠে, যে বাচ্চারা খাবার প্লেটে ডিম পাবে কিনা। সেই নিয়ে এতদিন জল্পনা বহাল ছিল। তবে বুধবার নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । জানালেন, মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার নবান্নে স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠান ছিল। সরকার বা সরকার পোষিত মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ২৯৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে ডিম নিয়ে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিডডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে ঠিকই তবে এর বাইরে প্রোটিনযুক্ত আহারের কথা মাথায় রেখে হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে ডিম দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রোটিন যুক্ত খাবার দেবে ইসকন। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের কাছে যে অনুরোধ এসেছে সেটা মাথায় রেখেই সেল্প-হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এটা আলাদা করে দেওয়া হবে সপ্তাহে একদিন বা দু-দিন। শনিবার কলকাতায় এর সূচনা করা হবে।
রাজ্য বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মিড-ডে মিল নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল। ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এই খবর পেতেই সংশয় দেখা যায় শিক্ষামহলের একাংশে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ইসকনকে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার পরোক্ষ অর্থ হল পড়ুয়াদের নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের দিকে ঠেলে দেওয়া। তাই অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, এবার থেকে কলকাতার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের মেনু থেকে চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে ‘ডিম’।
চলতি মাসেই কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত ইস্যুতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় এবং তার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে হলফনামা তলব করে আদালত।
এর মধ্যে এই ডিম না থাকার বিষয়টি নিয়ে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, “সমাজে ও এই দেশে বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা সম্পূর্ণ নিরামিষাশী। শুধু ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর বহু কোটি মানুষ আজীবন নিরামিষ খাবার খেয়েই সুস্থভাবে বেঁচে আছেন। নিরামিষ আহারের মধ্যেও যথেষ্ট পুষ্টিগুণ থাকে এবং যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁরাও শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি পান। তাই শিশুদের পুষ্টির জন্য তাদের ঠিক ডিমই খেতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা বা অর্থ নেই।” মূলত স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শিক্ষামহলে এই আশঙ্কা আরও তীব্র হয় যে, নতুন সরকার হয়তো সত্যিই মিড-ডে মিলের তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়ার পথেই হাঁটতে চলেছে। তবে বুধবারের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা যে সব জল্পনায় জল ঢেলে দিল, তা বলাই যায়।