স্যারে বাদ যাওয়া হজযাত্রীদের নাম নিয়ে ট্রাইবুনাল কে দ্রুত নিস্পত্তি করতে বললো হাইকোর্ট

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

হজযাত্রীদের একাংশের দাবি, -‘ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় পাসপোর্ট এবং হজের জন্য ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। ট্রাইবুনালে আবেদন করলেও সেখান থেকে তাঁদের কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি’। ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি প্রচুর মানুষের। বিচারাধীন রয়েছে তাঁদের নাম। সেই রকমই প্রচুর হজযাত্রীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলা হয়েছে। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের।এদিন, হজ সংক্রান্ত মামলা উঠেছিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে। একক বেঞ্চের নির্দেশ, -‘স্যার -এ বিচারপ্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের আপিল দ্রুত বিবেচনা করতে হবে। সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে’। আবেদনকারীদের দাবি, -‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় হজযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট ও ভিসা পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।’ মামলাকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন তাঁরা। শুনানিরও আবেদন করা হয়েছে। এরপর রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আবেদনকারীরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হলে, আইন অনুযায়ী তাঁদের আপিল বিবেচনা করা হবে। এরপরই দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।হজ যাত্রার জন্য প্রয়োজন পাসপোর্ট। অন্তত ছ’মাসের মেয়াদ সহ আসল পাসপোর্ট। এ দিকে,পাসপোর্ট তৈরিতে লাগে ভোটার আইডি ও আধার কার্ড সহ একাধিক নথি। এরফলে ভোটার কার্ড না দেখাতে পারায় তৈরি করা যাচ্ছে না পাসপোর্ট। আর তার জেরেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া লাগবে অনুমোদিত হজ ভিসা এবং ডিজিটাল বা প্রিন্টেড হজ পারমিট। হজ পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।এ অবস্থায় সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে ট্রাইবুনালকে ওই হজযাত্রীদের আবেদন দ্রুত শোনার জন্য বলেন বিচারপতি। বিচারপতির নির্দেশ -‘ হজযাত্রীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত জানাক ট্রাইবুনাল। বিচারপতি এ-ও জানান, সম্ভব হলে দু’সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইবুনালকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই বিষয়ে।, প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে বা বাদ দিতে এ রাজ্যে ট্রাইবুনালে কত আবেদন জমা পড়েছে, কত নিষ্পত্তি হয়েছে, সে বিষয়ে গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে তথ্য জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। কোন জেলায় কত আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তারও হিসাব দিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইবুনালে মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯টি আবেদন জমা পড়ে। তার মধ্যে ১০ তারিখ পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। ঝুলে রয়েছে ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্টের এহেন নির্দেশিকায় কতটা তৎপর হয় ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *