
মাতৃ দিবসে
সুবল সরদার, সংবাদ আবির্ভাব
মা একটি সঞ্জীবনী মন্ত্র। মায়ের বিকল্প মা ছাড়া কে হতে পারে? অনেক মা আছেন – জেঠিমা, কাকিমা, পিসিমা ,দিদিমা কিন্তু মাতৃত্ব? মা ছাড়া মাতৃত্ব নেই । মায়ের মতো আপন কেউ নেই। প্রথম চোখ মেলে যে নারীকে আমি দেখেছি তিনিই আমার মা। মায়ের কাছে যতো আবদার, চাওয়া পাওয়া । মা আমার কাছে এক পৃথিবী। প্রথম পা পা করে হাঁটতে শেখা মায়ের হাত ধরে। প্রথম অ আ শেখা। প্রথম স্কুলে যাওয়া । মায়ের পাশে শুয়ে রূপকথার গল্প শুনতাম । মাকে জড়িয়ে ঘুমপাড়ানি গানে কখন ঘুমিয়ে পড়তাম । মা নিরাপদ জগৎ । পুকুরে সাঁতার কাটলে মা বকুনি দিতেন যদি জ্বর আসে। গাছে উঠলে মা বকুনি দিতেন যদি পা ভাঙ্গে। মনে আছে মা তাঁর পরণের কাপড় চাদরের মতো পাট করে আমার ছোট্ট শরীর জড়িয়ে দিতেন, শীতের সকালে আমাকে উঠানের রোদে বসিয়ে দিতেন। শীতের রাতের বিছানায় আমার পাদুটো ,হাতদুটো তাঁর পায়ের ভিতর, বুকে জড়িয়ে রাখতেন আমাকে গরম করতে । মায়ের স্পর্শ কী জাদু ! একটা শিশু দৈহিক, মানসিক পুষ্ট লাভ করে মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ, ভালোবাসায়, । সি সি ক্যামেরার মতো মায়ের নজর থাকে সর্বদা শিশুর উপর । শিশুর মনের কথা মা ছাড়া কে বোঝে । মা মানে শান্তি, পূণ্যি। মাগো মা, তোমার চরণে শতকোটি প্রণাম।
অন্ধ যেমন পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ থেকে বঞ্চিত হয় তেমনি মাতৃহারা শিশু মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয় । তাই ‘কর্ণ কুন্তী সংবাদে’ কর্ণ বলছেন -‘কতবার হেরেছি নিশীথস্বপ্নে জননী আমার
‘জননী, অবগুণ্ঠন খোল, দেখি তব মুখ ‘-
অমনি মিলায় মূর্তি তৃষ্ণার্ত উৎসুক
স্বপ্ননেরে ছিন্ন করি । ‘
যেদিন কোলকাতায় থেকে অপু বাড়ি এলো । বাড়িতে গিয়ে মা মা বলে ডেকে কোথাও সাড়া পেলনা। বাড়ির বাইরে গিয়ে দেখে খড়ের ভস্ম। তার হৃদয় বিদারক অব্যক্ত কান্না হাহাকারে বুক ফাটে । এ পৃথিবীতে মা ছাড়া তার কেউ নেই । ওরে তোতা পাখি,তোর পায়ের শিকল দেবে কেটে
তুই যদি বলতে পারিস মা আমার কোথায় গেছে চলে । প্রণাম মাতা ।