
ভবানীপুর কেন্দ্রের সমস্ত ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল রাজ্যের উচ্চ আদালত। ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম ,ভিভিপ্যাট এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, -‘অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য মুছে ফেলা যাবে না’।ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলেছিল। সেই স্কুলের ভেতরের এবং বাইরের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সেই সঙ্গেই ভবানীপুরের গণনা মামলায়, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সুব্রত গুপ্ত এবং সুনীল আগরওয়ালকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটাই প্রথম নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছিলেন। সেই হার নিয়েও পরবর্তীতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে একটি ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলাফল ঘোষণার সময় কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আদালতের দারস্থ হয়েছেন মমতা। সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে গত ১৬ জুন হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেছিলেন। সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এদিন আদালতে মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গণনার দিনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “গণনার দিন ১২ রাউন্ড পর্যন্ত ঠিক চলছিল। মমতা এগিয়ে ছিলেন। এরপর সব বদলে যায়। তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর করা হয়, বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই কাজে বিজেপির এজেন্টদের সাহায্য কাজ করে। ১৩ রাউন্ড থেকে অস্বাভাবিকভাবে সব বদলে যায়। সিসিটিভি ক্যামেরায় সব রেকর্ড আছে।”ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট সহ ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ করতে নির্দেশ বিচারপতির। এদিন জয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী সহ বিবাদীদের মামলার নোটিশ পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । শুনানির শুরুর দিকেই বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত জানান, ”আমি একটা বিষয় জানিয়ে দিতে চাই, আমার দাদা ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র। আপনারা চাইলে এই মামলা এগোতে পারেন নাও পারেন। জানানো টা আমার কর্তব্য।”তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের একজন জেন্টলম্যান জজ। আমাদের এই বেঞ্চে মামলার বিচারের কাজে কোনও আপত্তি নেই। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, ”রেজাল্ট নিয়ে একাধিক ত্রুটি আমাদের নজরে এসেছে। কাউন্টিং হলে একটা সময় পর ঢুকতে দেওয়া হয়নি প্রার্থীর এজেন্টদের। ১৮% ভোট ছিল বিবাদীদের। হঠাৎ সেখানে ৮১% ভোট পেয়েছে। অবিশ্বাস্য সব কাজ। সিসিটিভি মধ্যে সবকিছু কভার আছে বলে মনে করি।”তিনি বলেন, ”নন্দীগ্রাম ২০২১ নির্বাচনের রিটানিং অফিসার এখানেও দায়িত্ব পেয়েছে। নন্দীগ্রামের ওই নির্বাচন ফল নিয়ে বিতর্ক আছে। যিনি সিইও তিনি আবার মুখ্যসচিব রাজ্যের। একটা বড় সময় উভয় দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার অভিযোগ থাকে।”কল্যাণ অভিযোগ তোলেন, ”রিটার্নিং অফিসার, অবজার্ভার বাইরের রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে যা আইন বিরুদ্ধ। জনমানসে ধারণা তৈরি হয়েছে ইলেকশন পিটিশন করে কিছু হয়না। ২০২১ মামলার এই মূহুর্তে গুরুত্বহীন। তাই আবেদন এই আদালতের কাছে, ভবানীপুরের মামলাটি দ্রুততার সঙ্গে শুনানি করা হোক।”সব শুনে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন, শাখাওয়াত স্কুলের ভবানীপুরের কাউন্টিং সেন্টারের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ। ভিতর ও বাহিরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট সহ ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ করতে হবে। তিন সপ্তাহ পরে এই মামলার শুনানি রয়েছে।