
মোল্লা জসিমউদ্দিন,সংবাদ আবির্ভাব
‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই কি রেশন বন্ধ করে দেওয়া যায়?’ এমনই প্রশ্নে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া যে সমস্ত ব্যক্তির রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের রেশন চালুর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আপাতত ওই ব্যক্তির রেশন সুবিধা বহাল থাকবে।ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেই রেশন বন্ধ নিয়ে দায়ের হওয়া এক মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে আপাতত মামলাকারীর রেশন বন্ধ করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর সিঙ্গল বেঞ্চ। এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে ভোটার তালিকা থেকে উম্মে সালমা নামে কোচবিহারের এক মহিলার নাম বাদ পড়েছিল।এরপর তিনি ছ’নম্বর ফর্ম পূরণ করে পুনরায় নাম তোলার আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের ফয়সালা এখনও ঝুলে রয়েছে। এরমধ্যে তিনি জানতে পারেন তাঁর রেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।এই মামলায় তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, -‘ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন বকেয়া অবস্থায় রেশন বন্ধ করা যায় না।’ যদিও রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, মামলাকারীর রেশন কার্ড এখনও অ্যাকটিভ রয়েছে। ফলে এটা আশঙ্কা মাত্র। সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি নির্দেশে জানান, আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলাকারীর রেশন বন্ধের মতো পদক্ষেপ করা যাবে না। এব্যাপারে কোচবিহারের খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল কনট্রোলার এবং কোচবিহার দক্ষিণের ইআরও-র কাছে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। দু’সপ্তাহ পর মামলার শুনানি।মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর মত, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই ওই ব্যক্তি সরকারি রেশন পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। নাগরিকের খাদ্য নিরাপত্তার অধিকার -এর সঙ্গে ভোটাধিকারের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও ইঙ্গিত দেয় বেঞ্চ। আদালত জানায়, এই বিষয়টি আরও বৃহত্তর পরিসরে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।ভোটার তালিকা ও রেশন ব্যবস্থা দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।