
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
এ রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা । মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে দাবি করেন, -‘রাজ্যে মোট ৬০টি সংশোধনাগার রয়েছে। অভিযোগ, সেই সংশোধনাগারগুলির ভিতরে বেআইনি অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ চলছে’। রাজ্যের জেলগুলিতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলে একটু ভালো খাবার এবং ঘুমানোর জন্য মাসে বন্দি পিছু ৭ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বন্দিকেই এই টাকা দিতে হয়। পরিষেবা পেতে অনলাইনেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এই অভিযোগের সমর্থনে সংশোধনাগারের ভিতরে বেআইনি কার্যকলাপ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিও আদালতে পেশ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর দাবি, -‘এই ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এক জন জেল সুপারকে সাসপেন্ড করেছে।’রাজ্যজুড়ে জেলে এই সিন্ডিকেট তোলাবাজির তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী তৌহিদ ইসলাম। রাজ্যজুড়ে জেলের এই তোলাবাজি বন্ধ করতে সিবিআই বা সিআইডি এবং ইডি তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। তোলাবাজি ও বেআইনি চাঁদা আদায় রুখতে এবার বিশেষ আইন আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত নতুন আইনে ‘তোলাবাজি’কে নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর জন্য শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধান থাকবে। তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে নতুন আইনের আওতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। থানায় অভিযোগ জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ আইনের নির্দিষ্ট ধারায় পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা রাখার ভাবনাও রয়েছে।যদিও মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, -‘অভিযোগগুলি জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত’। এরপরই রাজ্যকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট । রাজ্যের রিপোর্টের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দিতে পারবেন মামলাকারী।তিন সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত।শুধু জেল নয়, বিভিন্ন আদালতে পুলিশ লকআপে বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় বলে ভুক্তভোগীদের একাংশ জানাচ্ছেন। পুলিশ কর্মীদের একাংশ এইসব জায়গায় বছরের পর বছর থেকে যান অজ্ঞাত কারণে।