আরজিকর মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ডিভিশন বেঞ্চ, ফের অগ্রগতি রিপোর্ট তলব

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন, সংবাদ আবির্ভাব

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে উঠে আরজি কর মামলা। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই তদন্তে সিবিআইয়ের ঢিলেঢালা মনোভাবে এবার চরম বিরক্তি প্রকাশ করল রাজ্যের উচ্চ উচ্চ আদালত। তদন্তে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সিট -এর তদন্তকারী অফিসার বা আইও-কে অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।আরজি কর মামলায় ফের সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্টে তোপের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই ‘গা ছাড়া মনোভাব’ নিয়ে কাজ করছে বলেই ভর্ৎসনা বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার আর্জি নির্যাতিতার মা ও বাবার। আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহরায়। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন আরজি কর কাণ্ডে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে, বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘সিবিআইকে তদন্ত হস্তান্তরে দেরি করা হয়েছে। তথ্য প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য কারা দায়ী? এটাও তো একটা অপরাধ।’ এদিন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘চার্জশিট দাখিল করার পরে, ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। পরিবারের কি অভিযোগ আছে? কেউ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে কিনা সিবিআইকে খুঁজে বের করতে হবে।’অন্যদিকে সিবিআইয়ের এর তরফ থেকে সওয়াল করা হয়েছে যে, ‘একাধিকবার সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে, পরিবারের সব বক্তব্য শুনে উত্তর দেওয়া হয়েছে’। এরপরে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন করেন, ‘সিবিআই বলছে মায়ের বক্তব্য নিয়েছেন, সেটা কোথায়’। উত্তরে সিবিআইয়ের তরফ থেকে বলা হয়, ‘আমরা তাঁর বক্তব্য লিখে রেখেছি।’ ‘এই মামলায় সিবিআই গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে,’ মন্তব্য বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। তিনি আরও বলেন, ‘হয় রাজ্য বলুক যে তারা ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ, আর না হয় বলুক যে তথ্য প্রমাণ নষ্টের জন্য কেউ দায়ী নয়। চার্জশিট দাখিলের পর ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে?’এদিন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, ‘তাহলে এই মামলা আমরা সিবিআইয়ের হাত থেকে নিয়ে নিচ্ছি। নির্দেশ নামায় এটাও লিখব যে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা হাইকোর্টের ঊর্ধ্বে। তাঁরা আদালতের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা উপযুক্ত তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরে বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘আমাদের নির্দেশের মানেই ছিল যে সিবিআইয়ের আগের তদন্তকারী অফিসারদের থেকে মামলা সরিয়ে নতুন গঠিত সিটকে দেওয়া। সেটাই আপনারা বুঝতে পারছেন না? আপনারা আপনাদের সহকর্মীদের প্রতি এত সহানুভূতিশীল?’ ‘সিবিআই না পারলে মামলা সিআইডি কে দিয়ে দেওয়া হোক’, এই আর্জি নির্যাতিতা পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহরায়দের।এরপরে, বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘আমরা সিবিআইয়ের আধিকারিকদের প্রতি আস্থা রাখছি, আশা করছি তারা সঠিক তদন্ত করবে।’ এদিন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পুরনো কোনও তদন্তকারী আধিকারিক নবগঠিত সিট-এ থাকবেন না। পরবর্তী পর্যায়ের তদন্তের জন্য আরও সময় দিল আদালত, পরবর্তী শুনানি ৬ আগস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *