
মোল্লা জসিমউদ্দিন,সংবাদ আবির্ভাব
বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে -‘ যে কোন প্রকল্পের জন্য জমি নেওয়ার পর সেখানে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না’। সিঙ্গুরের এক মামলায় রেলকে কড়া বার্তা কলকাতা হাইকোর্টের। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত উচ্ছেদের নোটিসের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।এদিন রাজ্যের উচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছে -‘কেন নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষতিপূরণ মেলেনি?’ এই বিষয়ে কৈফিয়তও তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। আদালত সুত্রে প্রকাশ, ডানকুনি থেকে লুধিয়ানা পর্যন্ত বিস্তৃত ১৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রেট করিডর তৈরির জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করেছিল ভারতীয় রেল। নিয়ম মেনে জমির মালিকদের ন্যায্য মূল্য মেটানোর পাশাপাশি শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। টাকা মেটানোর পরেও জমি সম্পূর্ণ ফাঁকা করা যায়নি।এর ফলে সম্প্রতি সেখানে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠায় রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অধিগৃহীত জমিতে বসবাসকারী ৮টি ভাড়াটিয়া পরিবার। এদিন মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী অরিন্দম দাস কলকাতা হাইকোর্টে রেলের নিজস্ব জমি অধিগ্রহণ আইনের নথি তুলে ধরেন। তিনি সওয়ালে বলেন , -‘জমির মালিকরা টাকা পেলেও, সেখানে বছরের পর বছর থাকা ভাড়াটিয়ারাও আইনিভাবে ক্ষতিপূরণের অধিকারী’। ২০২২ সালে হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশ দিলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত এক পয়সাও পাননি ওই বাসিন্দারা।এদিন রাজ্যের উচ্চ আদালতে রেলের আইনজীবীও স্বীকার করে নেন যে, -‘প্রকল্পের জমিতে থাকা যে কোনও ব্যক্তিই ওই এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য’। তবে এর পেছনে রাজ্যের দিকেই দায় ঠেলেছে রেল। তাদের দাবি, ২০১৩ সালের নতুন কেন্দ্রীয় আইন মেনে টাকা দিতে রেল প্রস্তুত থাকলেও, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করার দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের। তৎকালীন রাজ্য সরকার সেই অঙ্ক নির্দিষ্ট না করে দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।উভয়পক্ষের সওয়াল শুনে ক্ষোভপ্রকাশ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। তিনি নির্দেশ দেন, -‘আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত উচ্ছেদের নোটিসের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ থাকবে। ২০২৩ সালের মধ্যে কেন ওই বাসিন্দাদের টাকা মেটানো হয়নি, রেলকে তা হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। এছাড়াও, অবিলম্বে মামলাকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’ ২০১৩ সালে কেন্দ্র নতুন জমি অধিগ্রহণ আইন আনলেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার রাজ্যে তা কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ আইনজীবীদের একাংশের। তবে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে কেন্দ্রের সেই আইন এ রাজ্যে পুরোদমে কার্যকর হবে এবং জট কাটবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।এখন দেখার পরবর্তী শুনানিতে কি উঠে আসে?