আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে আইনী রক্ষাকবচ প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির,তবে তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজের জামিন খারিজ

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন,সংবাদ আবির্ভাব

বুধবার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তাঁর স্বামী তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছে হাইকোর্ট ।সিঙ্গেল বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, -‘অদিতির চার মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে।’তবে বিদেশে যেতে পারবেন না তিনি। পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে তাঁকে। কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা যাবে না। আর আপাতত বাগুইআটি থানা এলাকায় ঢুকতে পারবেন না প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তৃণমূল নেতার আয়বহির্ভূত সম্পত্তি ১০০ কোটিরও বেশি। এর পাশাপাশি জমি হাতানো, নির্বাচনের আগে বিপুল সম্পত্তি বিক্রি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি না দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সুত্রে প্রকাশ, তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর টাকা লেনদেন হত বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা রাম শর্মার ব্যাঙ্ক একাউন্টে। চলতি সপ্তাহে এই তথ্য পাওয়ার পরে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিহারের বেগুসারাই থেকে রাম শর্মাকে গ্রেফতার করে। তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বাগুইআটি থানার পুলিশ খতিয়ে দেখছে কী কারণে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাত দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তার সঙ্গে কী কারণএ লেনদেন হতো সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিন কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, অদিতিদের কালিম্পঙে অ্যাকাউন্ট ছিল। কিন্তু ভোটের আগে টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ-ও বলা হয়, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দু’জন গ্রেফতার হয়েছিলেন। বিগত ৫ বছরে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী অদিতির বিরুদ্ধে।নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় আয়ের সঠিক তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী অদিতি মুন্সী ও তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠে, দেবরাজ ও অদিতির ১০০ কোটির সম্পত্তি আছে, হলফনামা জমা দেওয়ার আগেই তাঁরা সেই সম্পত্তি হস্তান্তর করে দেন। সেই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় দেবরাজ ও অদিতি আদালতের দ্বারস্থ হন।অদিতি মুন্সীর ক্ষেত্রে আপাতত রক্ষাকবচ থাকছে। তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে, বুধবারের শুনানিতে অদিতি মুন্সীকে শর্ত দিয়েছে আদালত।স্থানীয় আদালতে নিজের ফোন নম্বর দিতে হবে। তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।তিনি বাগুইআটি থানা এলাকায় থাকতে পারবেন না। তার বাইরে যেখানে থাকবেন, সেই জায়গার ঠিকানা, ফোন নম্বর তদন্তকারীদের জানিয়ে দিতে হবে।অভিযোগকারীদের ভয় দেখানোর আশঙ্কা আছে বলে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অদিতিকে। নতুন করে আর্থিক দুর্নীতি আইনের ধারা মামলায় যুক্ত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *