কবিগুরুর ব্যবহৃত মোটরগাড়ির প্রদর্শনী – রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির অভিনব উদ্যোগ

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন, সংবাদ আবির্ভাব

বুধবার সন্ধেবেলায় জোড়াসাঁকো বাড়িতে অবস্থান কালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মোটরযানটি ব্যবহার করতেন, সেটি ঠাকুর পরিবার থেকে প্রাপ্ত দানস্বরূপ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির হেফাজতে রয়েছে। দীর্ঘ দিন অব্যবহারে জীর্ণ মোটরগাড়ি সহ ভগ্নদশাগ্রস্ত কক্ষটি টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারপার্সন শ্রীমতী মানসী রায়চৌধুরীর আর্থিক বদান্যতায় সংস্কার ও মেরামত করে নূতনভাবে সাজিয়ে মোটরগাড়ির প্রদর্শনী কক্ষটির উদ্বোধন হল বুধবার সন্ধ্যায়। এই বিশেষ উদঘাটন পর্বে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমতী মানসী রায়চৌধুরী। সোসাইটির তরফে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি বিচারপতি সৌমিত্র পাল, সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়, সহ-সম্পাদক রঞ্জিত কুমার নায়ক, কর্মপরিচালন সমিতির সদস্য সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ধীমান দাশ সহ সোসাইটির সদস্য/সদস্যাগণ। আড়ম্বরপূর্ণ ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিথিবর্গের সহায়তায় ফিতা কেটে প্রদর্শনীকক্ষটির উদ্বোধনের সাথে ঐতিহ্যবাহী মোটরগাড়ি তৎসহ প্রদর্শন কক্ষটি বাইরের মানুষজনের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উপস্থিত সদস্য সহ সকল মানুষজন উচ্চ করতালি যোগে সাধুবাদ জানান সোসাইটির এই উদ্যোগের প্রতি। সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, এটি একটি বহুদিনের স্বপ্ন যা আজ বাস্তবায়িত হল।
প্রদর্শনীকক্ষটি উদ্বোধন হওয়ার পর সন্ধ্যাবেলায় সোসাইটির প্রশস্ত লাইব্রেরি ঘরে আয়োজিত হয় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ছুটেছে মন মাটির টানে’ শিরোনামে। প্রথম পর্যায়ে উদ্বোধনী সংগীতের পর বিশিষ্ট অতিথি মানসী রায় চৌধুরী মহাশয়াকে সোসাইটির তরফে সংবর্ধিত করা হয়। স্বল্প ভাষণে শ্রীমতি রায় চৌধুরী রবীন্দ্রভারতী সোসাইটিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তাঁকে এইরকম একটি পুণ্য কাজে অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিচারপতি সৌমিত্র পাল এবং সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। এর পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু – বাংলা গানের ভাঙা-গড়ায় রবীন্দ্রগান থেকে রবীন্দ্রসংগীত। ভাষ্য, গান, কবিতা সমন্বয়ে প্রস্তুত এই আলেখ্য পরিবেশন পর্বে সংগীতে ছিলেন সুপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়, শিবাজী বসু, তন্দ্রিমা দত্ত, সৌমি মুখার্জী, দেবাশিস দত্ত। ভাষ্যপাঠে কবিতা ঘোষ, সুমিতা ঘোষ, শুভ্রা দাস। হারমোনিকায় রবীন্দ্রগানের সুর বাজিয়ে শোনান দোলন রায় গাঙ্গুলী, ম্যান্ডোলিনে মলয় দাস, সিন্থেসাইজারে শোভম রায় গাঙ্গুলী, অক্টোপ্যাডে সুপ্রিয় রায় ও তবলায় শুভজিত আচার্য। মূল আলেখ্যটির তথ্য সংকলন, সংযোজন, গ্রন্থনা ও সহযোগিতায় ড. দেবাশিস দত্ত, সোনালী গুপ্ত, কবিতা ঘোষ, জয়শ্রী দে। সোসাইটির শিল্পীসদস্যবৃন্দের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে শ্রুতিমধুর মনোজ্ঞ। শেষ পর্বে সমবেত কণ্ঠে ভারতের জাতীয় সংগীত গেয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠান পর্ব সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সদস্যা পিয়ালী ঘোষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *