তৃণমূলবিরোধী বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী লেখালিখি যে সমস্ত ফেসবুকের বন্ধুরা করেন তাদের উদ্দেশ্যে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জনের গুরুত্ব পূর্ন বার্তা

Spread the love

তৃণমূলবিরোধী বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী লেখালিখি যে সমস্ত ফেসবুকের বন্ধুরা করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য কিছু গুরুত্ব পূর্ণ কথা বলেছেন, কি সেই কথা দেখুন।

এক খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই রাজ্যের ফ্যাসিষ্ট সরকার তার পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে মানুষের প্রতিবাদের কন্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চাইছে। নানাভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার করিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলতে চাইছে বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার উপরেও নজরদারি শুরু করেছে এরা। লক্ষ্য রাখছে সরকারবিরোধী বা তৃণমূল বিরোধী লেখাপত্রের উপর। সম্প্রতি বালুরঘাটের এক ব্যক্তির এক ফেসবুক পোষ্টকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমতাবস্থায় আপনার কী করণীয় এবং কী পরিত্যাজ্য তা জেনে নিন ভালো করে।

জেনে রাখুন-

১) বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করতে পারে না।
২) গ্রেপ্তারের সময় আপনাকে গ্রেপ্তারের কারণ, গ্রেপ্তারকারী অফিসারের নাম, গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান সম্পর্কিত একটি মেমো পুলিশ আপনাকে বা আপনার বাড়ির লোককে দিতে বাধ্য। এই জিনিসটি অবশ্যই চেয়ে নেবেন। মামলার ক্ষেত্রে এটির গুরুত্ব অপরিসীম।

৩) গ্রেপ্তার করার ২৪ ঘন্টার মধ্য পুলিশ আপনাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করতে বাধ্য এবং ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া আর একদিনও আপনাকে অতিরিক্ত আটকে রাখতে পারে না। কোর্ট ছুটি থাকলে সেক্ষেত্রে ম্যাজিষ্ট্রেটের বাড়িতে আপনাকে হাজির করাতে হবে।

৪) মহিলা পুলিশ ছাড়া কোনোভাবেই কোনো মহিলাকে গ্রেপ্তার বা তল্লাশী চালানো যায় না।
৫) আইন অনুযায়ী পুলিশ লক আপে আপনাকে কোনোপ্রকার শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার করতে পারে না। এমনকি চড় মারতেও পারে না।

এবার জেনে নিন কিভাবে পুলিশ আপনাকে হয়রানি করতে পারে ও এক্ষেত্রে কি করবেন।

১) সাধারণ ভাবে সরকারবিরোধী, শাসক দল বিরোধী কোনো পোষ্টের জন্য পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। কারণ বাক স্বাধীনতার অধিকার আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত। কিন্তু পুলিশ চালাকি করে মামলা দায়ের করে অন্য ধারায়। আপনি পুলিশী হয়রানির শিকার হতে পারেন যদি আপনি আপনার ফেসবুক পোষ্টে-

ক) অশ্লীল কোনো শব্দ ব্যবহার করেন
খ) ভিত্তিহীন গুরুতর অভিযোগ করেন
গ) চরিত্রহনন করেন।

                       এই সমস্ত বিষয়গুলি তাই এড়িয়ে চলুন। স্বেচ্ছায় পুলিশের হাতে অস্ত্র তুলে দেবেন না।

২) স্থানীয় রেপুটেড কোনো ক্রিমিন্যাল ল ইয়ার, স্থানীয় মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী এবং মিডিয়ার ফোন নাম্বার হাতের কাছে রাখুন। বাড়ির লোককেও নাম্বারগুলি দিয়ে বলে রাখুন আপনাকে পুলিশ তুলে দিয়ে গেলে এই নাম্বারগুলিতে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করতে। মিডিয়া আর মানবাধিকার আন্দোলনকর্মীরা ফিল্ডে নামলেই দেখবেন পুলিশের উদ্যত ফনা গোটাতে শুরু করেছে। APDR এর কেন্দ্রীয় অফিস (১৮ মদন বড়াল লেন, কলকাতা ১২। ফোন- 033- 22376459) এবং আপনার এলাকার স্থানীয় অফিসের ফোন নাম্বার হাতের কাছে রাখুন। বাড়িতেও দিয়ে রাখুন।

৩) কোনো ব্যক্তি পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন জানতে পারা মাত্র তার পাশে দাঁড়ান। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে খবরটি ছড়িয়ে দিন যাতে পুলিশের উপর চাপ তৈরী হয়। মনে রাখবেন, আপনি যদি অন্যের পাশে না দাঁড়ান তাহলে আপনার বিপদে আপনার পাশেও কেউ দাঁড়াবে না।

দরকারে পোষ্টটি শেয়ার করে অন্যকেও সচেতন করুন। [Bikash Ranjan Bhattacharyee, Save Democracy,WB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *