
সৌরভ দত্ত, সংবাদ আবির্ভাব,কলকাতা: সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য একগুচ্ছ নতুন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
সরকারি হাসপাতালে বেড না পেলে রোগীরা যাতে ফ্রিতেই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন, সেটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ‘মক ড্রিল’ গত সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে। এর জন্য রাজ্য জুড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ২৪২৬টি বেড ঠিক করা হয়েছে। যেমন আজই এসএসকেএম হাসপাতালে বেড না পাওয়া এক রোগীকে কেপিসি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে এই ব্যবস্থার ট্রায়াল নেওয়া হল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ৬টি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা হচ্ছে। এগুলি হবে আলিপুরদুয়ার, সিউড়ি, শিলিগুড়ি, আসানসোল, বালুরঘাট এবং কালিম্পঙে। এছাড়া কলকাতাতেও নতুন একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা হবে।
স্কুল ও হাসপাতালের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে একটি কড়া নিয়ম আসছে। খুব শিগগিরই নতুন আদেশ জারি করে জানানো হবে যে, কোনও স্কুল বা হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত কোনও জিনিস বিক্রি করা যাবে না।
সবশেষে, রাজ্যে কম বয়সে মেয়েদের মা হওয়া নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১১ থেকে ১৪ বছরের মেয়েদের মা হতে দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন—নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে যেকোনও মূল্যে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবারে দুটির বেশি সন্তান না নেওয়ার এবং উপযুক্ত গর্ভনিরোধক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবেদন জানিয়েছেন, দুটো মাত্র সন্তান নিন। দুটি সন্তান হয়ে গেলে, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসুন। রাজ্য সরকার বিনামূল্যে গর্ভ নিরোধক ব্যবস্থা করে দেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সোমবার জানিয়েছেন, অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে বলছি নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশের মধ্যে একনম্বর পশ্চিমবঙ্গ। বঙ্গের সুতি ওয়ান, সুতি ২, শামশেরগঞ্জে এই ঘটনা অত্যধিক। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে গত সোমবার স্বাস্থ্যদফতরের ২৩ দফা সাফল্য ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।