
সৌরভ দত্ত, সংবাদ আবির্ভাব,কলকাতা :
তৃণমূল সরকারের আমলে নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে বার বার মুখ পুড়েছে সরকারের। পার্কস্ট্রিট-কাটোয়া-কামদুনির ধর্ষণের ঘটনা থেকে শুরু করে সন্দেশখালির ভয়ঙ্কর অভিযোগ। তারপরে আরজিকর হাসপাতালে ডাক্তারকে ধর্ষণ করে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। আরজিকর হাসপাতালের ঘটনা গোটা রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আন্দোলনে কেঁপেছিল রাজপথ। আর প্রতিটি ঘটনাতেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসনের তরফে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়নি। দোষীদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল সেই আমলের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আরজিকর হাসপাতালে একাধিক পুলিশ অফিসারের নাম করে অভিযোগ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিধানসভা নির্বাচনের যুদ্ধে, বিজেপির যে যে প্রতিশ্রুতিগুলি ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।
বিজেপি ক্ষমতার আসার পরপরই বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় তুলকালাম হয়েছিল ওই এলাকায়। ওই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির বিষয়ে গোড়া থেকেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের এনকাউন্টারও হয়েছে। সেই আবহেই বিধানসভায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে এমন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে বারুইপুরে গিয়েও শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন ‘সকালে জমা, বিকেল খরচ।’ বারুইপুরের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা। সেই সময়েও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, দোষীরা যেমন শাস্তি পাবে। তেমনই কারও গাফিলতি থাকলে সেটাও দেখা হবে। নারীদের উপর যে কোনও রকম অত্যাচারের অভিযোগ এলেই কড়া হাতে মোকাবিলা করার বার্তা এর আগেও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার বিধানসভা থেকে পুলিশকে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
পুলিশকে সব মিটিংয়ে বলেছি কোনও কন্যা, মহিলার উপরে যদি কিছু হয়, কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষার দরকার নেই, যা করার করে দেবেন। ঢাল হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেক্ট করবে।’