বানান ভূলে মায়ের নাম ‘স্যারে’ বাদ থাকায় এমবিবিএসে কাউন্সিলিংতে শংসাপত্র পেতে বাধা,দ্রুত সমাধানের নির্দেশ হাইকোর্টের

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন ,

কলকাতা হাইকোর্ট নিট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা নিট ইউজি ২০২৬ এর এক পরীক্ষার্থীর ‘ইকোনমিক্যালি উইকার সেকশন’ বা আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর শংসাপত্র পাওয়ার আবেদনটি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে। রাজ্যের উচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওই পরীক্ষার্থীর মায়ের নামের বানানে অসঙ্গতির কারণে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার বিষয়টি তাঁর (পরীক্ষার্থীর) যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। ‘ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও এই নির্দেশ দেন প্রিয়ংশু মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানিকালে।জানা গেছে, প্রিয়ংশু পশ্চিমবঙ্গে এমবিবিএস আসনে ভর্তির কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ই ডাবলু এস শংসাপত্র পাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এমবিবিএস আসন বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের দিন ১৮ আগস্ট, ২০২৬ নির্ধারিত থাকায় আদালত বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে।
ওই পরীক্ষার্থী নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৪৭১ নম্বর পেয়েছিলেন এবং তাঁর ‘অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক’ ছিল ১,৩২,৩০৪ ও ‘জেনারেল-ই ডাব্লু এস র‍্যাঙ্ক’ ছিল ১৬,৪০১। পরীক্ষার্থীর বাবা প্রশান্ত মুখোপাধ্যায় ২০০৮ সালে মারা যান এবং তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। পরীক্ষার্থীর মায়ের নামের ক্ষেত্রে একটি অসঙ্গতি ছিল, বিয়ের আগে তিনি ‘কাকলি মুখোপাধ্যায়’ নামে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘রেখা মুখোপাধ্যায়’ রাখেন।রাজ্যেত উচ্চ আদালতকে জানানো হয় যে, এই অসঙ্গতির কারণে ‘এসআইআর’ -এর সময় ভোটার তালিকা থেকে মায়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোটার তালিকায় পরীক্ষার্থীর নিজের নাম বহাল ছিল এবং তিনি এপ্রিল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছিলেন। পরীক্ষার্থী জানান যে, কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা সত্ত্বেও তাঁর ই ডাব্লু এস শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি যুক্তি দেন যে, এই বিলম্বের ফলে তিনি নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং এর ফলে নিট-এ ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও এমবিবিএস আসন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
পরদিন নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত পর্যবেক্ষণ করে: “এই আদালত মনে করে যে বিষয়টি জরুরি, কারণ ১৮ আগস্ট, ২০২৬—অর্থাৎ মঙ্গলবার —পশ্চিমবঙ্গের কোনো কলেজে এমবিবিএস আসন বরাদ্দের জন্য পরীক্ষার্থীর নথিপত্র যাচাইয়ের দিন ধার্য রয়েছে।” তদনুসারে আদালত উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তিনি যেন আবেদনকারীর ইডাব্লুএস ( সার্টিফিকেট প্রদানের অনুরোধটি অবিলম্বে বিবেচনা করেন এবং এ বিষয়ে উপযুক্ত আদেশ জারি করেন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আবেদনকারী যদি যোগ্য বিবেচিত হন, তবে “যত দ্রুত সম্ভব এবং সর্বশেষ আজ বিকেল ৫টার মধ্যে” ওই সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। আর যদি তিনি অযোগ্য বিবেচিত হন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার কারণ জানাতে হবে। আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে: “এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, ভোটার তালিকা থেকে মায়ের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ যেন বিবেচনায় না নেয়।” আবেদনকারীকে এই আদেশের মূল বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, ১৮ আগস্ট নথিপত্র যাচাইয়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণে যে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, কেবল তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আদেশ দেওয়া হচ্ছে। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *