
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির পর আরেক প্রাক্তন বিচারপতি সরে দাঁড়ালেন ট্রাইবুনাল থেকে। বেহাল রাস্তা আর যানজটে নিত্যদিনের দীর্ঘ যাত্রা। সেই সমস্যাই এ বার প্রভাব ফেলল জোকা ট্রাইব্যুনালের কাজে। বাড়ি থেকে ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের অসুবিধার কথা জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দপ্তরে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।জানা গিয়েছে, সল্টলেকে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ই। কাজের সূত্রে নিয়মিত তাঁকে জোকায় যেতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে গন্তব্যে পৌঁছতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। পাইলট কার সঙ্গে থাকলেও এক দিকে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফেরার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শহরের যানজটের পাশাপাশি রাস্তার ভগ্নদশাকেও এই দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। প্রাক্তন বিচারপতির বক্তব্য , প্রথম দিকে তাঁর ধারণা ছিল, ট্রাইব্যুনালের কাজ হয়তো দু-তিন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কয়েক মাসের যাতায়াতের সমস্যা মেনে নেওয়া সম্ভব বলেই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজের পরিধি দেখে পরে তাঁর সেই ধারণা বদলে যায়। বিষয়টি দ্রুত মিটে যাওয়ার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলেই বুঝতে পারেন তিনি। তখনই নিয়মিত এত দূরের পথ পাড়ি দেওয়া তাঁর পক্ষে কতটা কঠিন হতে পারে, তা স্পষ্ট হয়।তার মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের এক সদস্যের তরফে দায়িত্ব পালনের বাস্তব সমস্যার কথা সামনে এল। ফলে শুধু মামলার সংখ্যা নয়, বিচারপতিদের কর্মস্থলে পৌঁছনোর পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সংস্থায় প্রতিদিনের যাতায়াত যদি এতটাই সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর হয়, তা হলে তার প্রভাব কাজের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।জানা গিয়েছে, এর আগেও কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগণনম ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এ বার প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন সামনে আসায় সেই বিষয়টিও ফের আলোচনায় এসেছে।বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের ট্রাইব্যুনালে মুর্শিদাবাদ জেলার বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন বিবেচনাধীন। সব মিলিয়ে জোকায় ১৯টি ট্রাইব্যুনাল চলমান।অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি তাঁর সল্টলেকের বাড়ি থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে জোকার শুনানি কেন্দ্রে যাতায়াত করতে গিয়ে আবেদন নিষ্পত্তিতে উপযুক্ত সময় দিতে পারছেন না। পথে তাঁকে প্রতিনিয়ত তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যে পথ ধরে তিনি জোকায় যান সেখানে প্রায় যানজটের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীরা চেষ্টা করেও অনেক সময় রাস্তা উন্মুক্ত করতে পারেন না।ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গিয়েছে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় যাদের আপিল নিষ্পত্তি করেছেন তাদের ৮২.৩৫ শতাংশের নাম প্রকৃত ভোটার হিসাবে গৃহীত হয়েছে।সংবাদ মাধ্যমকে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি এ পর্যন্ত ৪২৫টি আপিলের নিষ্পত্তি করেছি। ৩৫০ জন আপিলকারীর নাম তালিকা থেকে পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং ৭৫ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তবে তাঁর আবেদন এখনও গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাজ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হবে, নাকি বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা হবে, এখন সেই দিকেই নজর। তবে তাঁর চিঠি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থার কাজকে গতিশীল রাখতে শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল নয়, বিচারপতিদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোরও প্রয়োজন।