
সৌরভ দত্ত, সংবাদ আবির্ভাব,কলকাতা: নতুন সরকারের আমলে পরিবহণ ক্ষেত্রে কার্যত একাধিক বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড চলছে। মেট্রো সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে রাস্তায় পরিবেশবান্ধব যান নামানো, সব কিছুতেই উন্নয়নের ছোঁয়া। তবে সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে সফরের সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বড় নিঃসন্দেহে। তাঁদের জন্য পিংক স্মার্ট কার্ডও চালু হয়েছে। তা দেখালেই আর ভাড়া দিতে হবে না। এতে মহিলা যাত্রীদের বেশিরভাগই খুশি। কিন্তু স্বনির্ভর মহিলাদের বিশেষ আপত্তি রয়েছে। তাঁরা চান, নিজের উপার্জনের অর্থে সরকারি পরিষেবার জন্য যা ভাড়া বরাদ্দ, সেটা দিতে। আবার অনেক মহিলার অভিযোগ, বাসে তাঁদের টিকিট কাটা সরকার তুলে দিয়েছে বলে বাসগুলি নির্দিষ্ট স্টপেজে মহিলা যাত্রীদের দেখলে আর দাঁড়ায় না। ফলে পরিস্থিতি সহজ হওয়ার বদলে বিতর্কে পরিণত হয়েছে যে বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা আদৌ কতটা কাজে লাগছে মহিলাদের।
মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘সরকারি বাসে আমাদের মা-বোনদের জন্য ফ্রি করে দিয়েছি। আর তাঁদের টিকিট কাটতে লাগে না। কিন্তু শুনছি, অনেক মহিলা যাত্রী চাইছেন টিকিট কেটেই যেতে। কেউ কেউ বলছেন, ৭০-৮০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তাই ফ্রি-তে বাসে যেতে চান না। তাঁদের কথা ভাবতে হবে। একটা বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।”
সড়ক পরিবহণ মসৃণ করার পাশাপাশি পরিবেশও বজায় রাখতে সরকার সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার পরিবহণ দপ্তর থেকে আর ৫০টি পরিবেশবান্ধব বাসের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ অনেক সরকারি আধিকারিকরা। এই পঞ্চাশটির মধ্যে ৪৩ টি সিএনজি চালিত, বাকি ৭টি ব্যাটারি চালিত। আরও বেশি এমন বাস রাস্তায় নামবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, কোনও রাজ্য তখনই গতিশীল হয়, যখন তার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হয়। এ ছাড়াও তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলে ব্যবসা বাড়বে, শিল্প আসবে ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এ ছাড়াও এদিন সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ির প্রশংসাও করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সঠিক ও সুন্দর করতে পারলে রাজ্য দ্রুত এগিয়ে যাবে। কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া না করে, সমন্বয় করে কাজ করলে পরিবহণ দফতরে উন্নয়নের গতি আনা যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যের বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে গেলেও পরিবহন দফতর সহায়ক হতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রী একাধিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নূন্যতম সময় ও অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথাও বললেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা জোর দিয়েছি, কলকাতা সহ রাজ্যকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন, অর্থাৎ সিএনজি ও ইলেকট্রিক গাড়ি যাতে বেশি চালানো যায়, সেদিকে নজর দিয়েছি। কেন্দ্রের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আরও অনেক ইলেকট্রিক বাস নিয়ে আসব আমরা। তার ৬০ শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্র।”
তবে, এই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুধুমাত্র কলকাতাতে হবে, এমন নয়; জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে ৩ টে পরিবহন নিগম। তার এতগুলো ডিপোতে চার্জিং স্টেশন ও আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।”
মুখ্যমন্ত্রী চিংড়িহাটার মেট্রোর জটের কথাও বলেন, তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, মেট্রোর চিংড়িহাটার জটের কথা। আগের সরকার যা ১৭ মাসেও মেটাতে পারেনি। বর্তমান সরকার কিন্তু ১৭ দিনেই মিটিয়ে দিয়েছি ছাড়াও কলকাতা মেট্রোর জোকা থেকে বিমানবন্দর লাইন সংযুক্তিকরণের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে।”
তিনি রাজ্যের অধীনে মেট্রো চালানোর কথাও বলেন। তিনি বলেন, “কলকাতা মেট্রো যেমন রেল দেখছে, তার আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দিয়েছি। তবে, অন্য রাজ্যের মতো পরিবহন দফতরের অধীনে সিটি মেট্রো চালু করব আমরা। আমি মাননীয় মুখ্য সচিবকে বলব, বিশ্ব ব্যাঙ্ক বা হাডকোকে সঙ্গে নিয়ে প্রজেক্ট তৈরি করতে। প্রথমে আসানসোল-দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়িকে আমরা যুক্ত করতে চাই।”
এ ছাড়াও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে বা সাঁতরাগাছির উপর চাপ কমাতেও বিশেষ ব্যবস্থার কথা বললেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “পশ্চিমবঙ্গ ১৭ তম রাজ্য হিসাবে ওয়াটার মেট্রো চালাতে চলেছে। একই সঙ্গে সড়ক, রাজ্যের মেট্রো ও জলপথ; একসঙ্গে এুগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কোনা এক্সপ্রেস দিয়ে যে পণ্যবাহী গাড়ি আসে। জ্যাম হয়, দূষণ হয়। আমরা, গার্ডেনরিচ ও শিবপুর, সাঁকরাইলের মধ্যে রো রো সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”