সাধারণ বাড়ি সঙ্গে সরকারি অফিসগুলিকেও প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় আনা হবে : শুভেন্দু

Spread the love

সৌরভ দত্ত, সংবাদ আবির্ভাব,কলকাতা:২০১৬ সালে প্রকল্পের সূচনা হলেও পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর কর্মসূচি । মঙ্গলবার এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম পর্যায়েই রাজ্যের ১৮১০টি পরিবারে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভর্তুকির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফেও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে। এই মুহূর্তে সর্বাধিক পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে মহারাষ্ট্রে। তবে পশ্চিমবঙ্গও দ্রুত এই কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে চায়। শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রের নির্ধারিত ভর্তুকির পাশাপাশি রাজ্য সরকারও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেবে।

কীভাবে আবেদন করতে হবে যা জানান, pmsuryaghar.gov.in – এই ওয়েবসাইটে গিয়ে কনজিউমার লিঙ্কে ঢুকতে হবে। সেখানে অ্যাপ্লাই নাও -তে গেলেই একটা ফর্ম সামনে আসবে। সেখানে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে ওটিপি জেনারেশনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী – ১০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে কেন্দ্র দেবে ৩০ হাজার টাকা ভর্তুকি, তার সঙ্গে রাজ্য সরকার দেবে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা। ২০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকির পাশাপাশি রাজ্য দেবে ১০ হাজার টাকা। ৩০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ৭৮ হাজার টাকা ভর্তুকির সঙ্গে রাজ্য দেবে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত সহায়তা। তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি) পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই শ্রেণির পরিবারগুলি অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, এসসি-এসটি ছাড়া আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অন্যান্য পরিবারের জন্যও আলাদা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রথম পর্যায়ে জেলার নিরিখে সবচেয়ে বেশি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে উত্তর ২৪ পরগণায় (২৩৮টি) এবং হুগলিতে (২৩২টি)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর একাধিক জনসভায় এই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এবার সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হল পশ্চিমবঙ্গেও।
রাজ্যের লক্ষ্য নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ পরিবারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে রাজ্য সরকার সেই সংখ্যাকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ পরিবারে পৌঁছে দিতে চায়। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শুধু সাধারণ বাড়ি নয়, সরকারি অফিসগুলিকেও প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় আনা হবে, যাতে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো যায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *