
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
সোমবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন । তৃণমূল নেতার রক্ষাকবচের মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে সই জাল কাণ্ডের শুনানি চলে । সেই মামলায় অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।রাজ্যের উচ্চ আদালতের নির্দেশ -‘ চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ বা সিআইডি’।তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে তদন্ত করছে সিআইডি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা-দের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছিল হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। তারপরেই সেই তদন্তভার যায় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির হাতে। সেই মামলাতে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন রাজ্য়ের গোয়েন্দারা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ ছিল কলকাতা হাইকোর্টের। তৃণমূল সাংসদ-কে রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছিল আদালত। সেই রক্ষাকবচের মেয়াদই বৃদ্ধি করা হয়েছে।এদিন শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে সওয়াল করে বলেন, ‘ফরেনসিক রিপোর্ট এসেছে। বিধায়কদের সই জালের সত্যতা উঠে এসেছে রিপোর্টে। ফরেনসিক পরীক্ষায় স্পষ্ট যে, তিন জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল।’ বিচারপতি কৌশিক চন্দ তখন প্রশ্ন করেন মোট কত জন বিধায়কের সই ছিল? উত্তরে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ৭০ জনের। পাল্টা আদালতের প্রশ্ন, কত জনের সই জাল হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে? রাজ্যের আইনজীবী জবাব দেন, অভিযোগ ছিল পাঁচ জনের সই জালের। তার মধ্যে তিন জনের সই জালের সত্যতা ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে। বিচারপতি ফের প্রশ্ন করেন, সই জালিয়াতি হল কী ভাবে? সই জাল হয়েছে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য দিচ্ছে সিআইডি, জানতে চান বিচারপতি। তার জবাবে রাজ্য জানায়, অভিষেকের উপস্থিতিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতি হয়েছে। গত ৬ মে কোনও রেজ্য়ুলেশন হয়নি। অথচ লেখা হয়েছে সেটা। বিধায়কদের সই করানোই হয়নি ওই দিন। সই করা হয়েছে ১৯ মে। কিন্তু ৬ মে সাধারণ সম্পাদকের প্যাডে লেখা রেজ্যুলেশন পাঠানো হয় বিধানসভার স্পিকারকে। যার প্রেক্ষিতে পাঁচ বিধায়ক বয়ান দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের সই জাল করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে সেই জালিয়াতির সত্যতা সামনে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি চন্দ বলেন, ‘অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জালিয়াতিতে যুক্ত, প্রাথমিক ভাবে আদালত তা মনে করছে না।’আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আইনী স্বস্তিরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।