
সৌরভ দত্ত,পানিহাটী : বেগম রোকেয়া ও তসলিমা নাসরিন—দু’জনেই বাংলা ভাষার বিশিষ্ট লেখিকা। বাংলা সাহিত্যে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যেমন নারী মুক্তির দিকপাল, তেমনি পরবর্তীকালে তসলিমা নাসরিনের মতো লেখিকাদের রচনায়ও নারী অধিকার, সামাজিক বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জোরালো স্বর দেখা গেছে। ভিন্ন সময়ের মানুষ এবং ভিন্ন সাহিত্যধারা সত্ত্বেও নারী স্বাধীনতা ও যুক্তিবাদী ভাবনার প্রশ্নে এই সামাজিক প্রতিবাদের চেতনা এক প্রগতিশীল ধারার পরিচয় বহন করে।
পানিহাটীর ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা সাহিত্য ও নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। নারী শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও সাহিত্যচর্চার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর সমাধিস্থল অবস্থিত পানিহাটী বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
সেই পুণ্যস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে উপস্থিত হলেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিদ্যালয়ের ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং উপস্থিত সকলেই আন্তরিক উচ্ছ্বাসে অংশ নেন।
এই উপলক্ষে শিক্ষক তথা স্থানীয় ইতিহাস গবেষক শ্রী কৃশানু ভট্টাচার্য তাঁর রচিত “পানিহাটীতে রোকেয়া চর্চা” শীর্ষক গ্রন্থটি তসলিমা নাসরিনের হাতে তুলে দেন। লেখিকাও এই ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁর এই সফরে আনন্দিত হন বিদ্যালয় পরিবার এবং পানিহাটীর অসংখ্য মানুষ।
রোকেয়ার স্মৃতির প্রতি এই শ্রদ্ধার্ঘ্য কেবল একজন মহীয়সী নারীকে স্মরণ নয়, বরং নারী শিক্ষা, যুক্তিবাদী চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানানোর এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। ছবি সৌরভ দত্ত