রবীন্দ্র ভারতী সোসাইটির রাখি পূর্ণিমা পালন

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন, সংবাদ আবির্ভাব : রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি বাংলা সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে।রাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার সন্ধেবেলায় সোসাইটির লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত হলো রাখিবন্ধন উৎসব। দায়িত্বে ছিলেন মিলন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সঞ্চিতা সাহা। ফুলের রাখি ছিল আজকের অনুষ্ঠানের দৃশ্যপট। সবাইকে রাখি ও চন্দন পরিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সোসাইটির সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের প্রাক কথন দিয়ে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। তিনি বলেন -“সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনের প্রতীক এই উৎসব।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রতিবাদে রাখিবন্ধন উৎসব শুরু করেন”। ‘বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু….’ গানটি লেখেন সেই উপলক্ষে। এই অনুষ্ঠান শুরু হয় এই গান দিয়ে।এরপর রাখি বন্ধন উৎসবকে ঘিরে গান, আবৃত্তি পরিবেশন করেন সোসাইটির সদস্যরা।অবনীন্দ্রনাথ সেদিনের যে বর্ণনা ‘ ঘরোয়া ‘ য় লিখেছিলেন সেখান থেকে পাঠ করা হয়।
রাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি পরিবেশন করেন সোসাইটির সদস্যরা। রাখি পূর্ণিমায় ঝুলন হয়। রাধা কৃষ্ণের সেই শাশ্বত লীলার আজ তৃতীয় দিন হ‌ওয়ায় আজকের অনুষ্ঠানে পদাবলীর গান পরিবেশিত হয়।এই দিনটিতে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি শুধুমাত্র রাখি সংক্রান্ত অনুষ্ঠান করবে ঠিক করলেও আজ স্মরণ করা হয় মাদার টেরিজাকে। আজ তাঁর জন্মদিন। সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি মাদার টেরিজা ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারী এসেছিলেন,সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেন। অতুল প্রসাদ সেনের তিরোধান দিবস হ‌ওয়ায় তাঁর গানেই তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।সৌমিত রায় অতুল প্রসাদ সেনের একটি গান পরিবেশন করেন।শতবর্ষে পা রাখলো আকাশবাণী কলকাতা। ১৯২৭ সালের ২৬ শে আগষ্ট আকাশবাণীর পথ চলা শুরু হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নামকরণ করেন। ঝর্ণা বাড়ুই ,কর্মসূত্রে স্বামী আকাশবাণীতে থাকায় তার চোখ দিয়ে আকাশবাণীর কথা বলেন, আর বলেন নিজের অভিজ্ঞতা। সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় আকাশবাণী সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনান। বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে তাঁর অনুষ্ঠান করার স্মৃতিকথা।
এবার হিমাদ্রি মুখার্জী তাঁকে দেওয়া মাদারের আশীর্বাদ পড়ে শোনান আর ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন থাকায় তাঁর লিপে ‘পুতুল নেবে গো পুতুল ‘ গানটি পরিবেশন করেন।
আজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক উজ্জ্বলতম দিন। আজকের দিনে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী ‘ সিনেমাটি রিলিজ করে। ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়
বিশ্ব সিনেমায় ‘পথের পাঁচালী ‘ কে সিনেমা বিশেষজ্ঞরা কিভাবে দেখেছেন তা সুন্দর করে তাঁর বক্তব্যে বলেন।
সব মিলিয়ে আজকের অনুষ্ঠান বৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল।অপরাজিতা ঘোষ , কৃষ্ণকলি বসু নিয়োগী , মীনাক্ষী দে দত্ত মঞ্জরী ভট্টাচার্য , সুবোধ সরকার, মহঃ রফিক, পিয়ালী ঘোষ,দ্বৈপায়ন গোস্বামী , দোলোন রায়, ইতি সাহা , সুভদ্রা গোহো সহ বহু সদস‍্য অংশগ্রহন করে সকলকে আনন্দ দেন।অনুষ্ঠান শেষে মনে হলো, শেষ হয়ে হ‌ইল না শেষ।তবু তো শেষ করতে হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *