‘স্পিকার ঘরে বসে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোনটা সঠিক, কোনটি ভূল?’ বিরোধী দলনেতা মামলায় হাইকোর্ট

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন, সংবাদ আবির্ভাব

মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে স্পিকারে আইনজীবীর কাছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জানতে চান, ‘যেদিন প্রথম দিন শোভনদেবের নাম বলা হয়েছিল, সেদিন বিধানসভায় কত রাজনৈতিক দল ছিল? যাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল সেটা অধিক আসন পাওয়া বিরোধী দল বলেছিল? যদি তাঁরা কারও নাম প্রস্তাব করেন সেটা বিধানসভার স্পিকার ইগনোর করে অন্য কারও নাম নিয়ে নিয়োগ দিতে পারে’? তিনি আরও বলেন, ‘এটা মাথায় রাখবেন, পরের প্রস্তাবের (বিরোধী দলনেতার নাম) সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল’।মহারাষ্ট্রে শিবসেনার উদাহরণ তুলে ধরে পাল্টা সওয়াল করেন স্পিকার আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘যারা পরে তৃণমূল দলের তরফে প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল’। বিচারপতির প্রশ্ন ,’যদি একটি দলের থেকে দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়, তাহলে স্পিকারের কি করনীয়? স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নাম বেছে নেবেন না দু পক্ষকে বলার সুযোগ দেবেন? না কি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন? স্পিকারের কি করনীয়’? হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘চেম্বারে বসে অধ্যক্ষ কি ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোনটা ঠিক কোনটা ভুল! হাউস কল না করে সেটার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন? এটা হওয়ার আগে দুজনের বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। যিনি অভিযোগকারী তারা কারা? শুধু দুজন বাদ দিকে বাকিরা যারা স্বাক্ষর করেছিলেন তারা কেউ বদলায়নি দু ক্ষেত্রেই। ৮০ জনের মধ্যে দুজন বাদ গেলে থাকে ৭৮। আর যারা আগে স্বাক্ষর করেছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই আগে ছিলেন। তাহলে কি ভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন স্পিকার। তাহলে এই অবস্থায় পুলিশের কাছে পাঠানো উচিত ছিল নয় কি? পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, ত্রুটি কোথায়’? বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কোন প্রস্তাবে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত হয়েছিলেন? স্পিকারের আইনজীবী জানান, প্রস্তাবে স্বাক্ষরগুলো মেলেনি। ২৭/০৫ তারিখে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে, ৩ জুন স্পিকার তৃণমূলের ৫৮ জন নির্বাচিত বিধায়কের কাছ থেকে আরেকটি চিঠি পান। সেই সময় স্পিকারের আইনজীবী বলেন, “তারা একই দলের, কিন্তু তারা অন্য একজনকে এলওপি এবং চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচন করছে”।তারপরেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিরোধীল দলনেতা নিয়োগ নিয়ে। যদি স্পিকারের কাছে একই দলের দুটি প্রস্তাব থাকে, তাহলে স্পিকারের দায়িত্ব কী? আগের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কোথায়?আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, ৮০ জন বিধায়ক এবং ৫৮ জন বিধায়কের ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। স্পিকার তাঁর কক্ষে বসে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কে সঠিক আর কে ভুল? আপনারা কী ভাবে নিজের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? আজ অর্থাৎ বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *